পৃথিবীর অপূর্ব সুন্দর গাছের মধ্যে নারিকেল একটি। এ গাছের ফলসহ প্রতিটি অঙ্গ ছোট-বড় শিল্পের মাধ্যমে বা সরাসরি জনজীবনে কাজে আসছে। আমাদের দেশে নারিকেলের যেসব জাতের প্রচলন আছে, তা মূলত লম্বা ও কম উৎপাদনশীল। এসব গাছে ফলন আসতে ৮ থেকে ৯ বছর সময় লাগে। পক্ষান্তরে উচ্চফলনশীল ওপি (খাটো) জাতের নারিকেলের ফলন আসতে সময় লাগে মাত্র ৩ থেকে ৪ বছর। ভিয়েতনাম থেকে আনা উচ্চফলনশীল এ নারিকেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ নারিকেল নতুন আশা জাগিয়েছে শেরপুরের নকলা উপজেলার হাজারো কৃষকের মাঝে।

২০০৫ সালে ভিয়েতনামে উদ্ভাবিত ‘সিয়াম গ্রিন কোকোনাট’ ও ‘সিয়াম ব্লু কোকোনাট’ নামের নতুন এ জাত দুইটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সব এলাকায় ওপি নারিকেলের চাষ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে কৃষকের মাঝে এর চারা বিতরণ করছে। ২০১৬-১৭ সালে নকলা উপজেলায় বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে ৬১০ এবং ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী হর্টিকালচার ট্রেনিং সেন্টারের আওতায় ৪০০টি চারা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে নকলা উপজেলায় ১ হাজার ১০ কৃষকের বাড়িতে ওপি জাতের ভিয়েতনামি নারিকেল গাছ রোপণ করা গাছের বৃদ্ধি দেখে বুকভরা আশা নিয়ে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন তারা। নকলা উপজেলার বাউসা এলাকার একরামুল, শরীফ, হালিমা, কাউসার, শফিক, ফটিক, আসমা; জালালপুর এলাকার কডা, সুহেল, খলিল ও হাফিজুর রহমানসহ  অনেকেই বলেন, তাদের রোপণ করা গাছে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ফল আসবে। ওপি জাতের ‘সিয়াম গ্রিন কোকোনাট’ ও ‘সিয়াম ব্লু কোকোনাট’ নারিকেলটি সর্বপ্রথম ২০০৫ সালে ভিয়েতনামে উদ্ভাবন করা হয়। এরপর ২০১৫ সালে এ জাত সমুদ্রপথে প্রথম বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। এটি ডাব হিসেবে ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী। সিয়াম গ্রিন কোকোনাট নারিকেলটির রঙ সবুজ এবং সিয়াম ব্লু কোকোনাট নারিকেলটির রঙ হালকা হলুদ বর্ণের হয়। প্রতিটি ডাবের ওজন ১ থেকে দেড় কেজি হয়। প্রতিটি গাছে ১৫০ থেকে ২০০টি ডাব ধরে। তবে সিয়াম ব্লু জাতটি ডাবের জন্য বেশি উপযোগী ও পানি অতি মিষ্টি।