খাদ্য দ্রব্যের ভেজালের ভিড়ে আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল, ভেজালমুক্ত খাবার কোথায় পাব? কৃষিবিদ হিসেবে এর সদুত্তর দেয়া আমার জন্য আবশ্যক ছিল বিধায়, আমি তাকে বলেছিলাম কচু খেতে। উনি হেসে উড়িয়ে দিলেন। বললেন, এত খাবার থাকতে কচু? এই হচ্ছে কচু সম্পর্কে আমাদের সামগ্রিক ধারণার একটি উদাহরণ।

গল্পটি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের চর মহিষা গ্রামের দুলাল জমাদ্দার নামের এক কচু চাষীরতিনি ২০০৮ সালে ফয়সাল মাতুব্বরের কাছ থেকে সাহেবী জাতের ২০-২৫ টি কচু চারা সংগ্রহ করে, বসত বাড়ির আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে তিনি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে কচু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২ শতক জমিতে প্রায় ৭০ টি কচু গাছ আছে। তার কাছ থেকে জানা গেল এই সাহেবী জাতের কচু চাষাবাদ প্রণালী। চারা সংগ্রহ করতে হয় গাছের গোড়া থেকে,মুকুল থেকে, গাছের বাড থেকে বা গছের অগ্রভাগ থেকে। সারিতে চারা রোপণ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। চারা উচু জমিতে রোপণ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি চারায়, রোপণের সময় ৫-৬ কেজি গোবর, ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২৫০ গ্রাম টি এস পি, ২০০ এম ও পি সার প্রয়োগ করতে হয়। বছরে ২ বার সার দিলেই হয়। ২ বছর পর কচু গাছ কে বাঁশ বা কঞ্চি দিয়ে সাপোর্ট দিতে হয়, যেনে আকারে বিশাল হওয়ায় কচু হেলে না পড়ে। জমিতে তেমন কোন সেচের প্রয়োজন পড়ে না কচুতে কোন রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা যায় না। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম। ২ বছরের মধ্যে প্রতিটি কচু বাজারজাত করা যায়। এবং ২ বছরের মধ্যেই প্রতিটি কচু ২০-২৫ কেজি হয়। তবে ৪ বছরে ৪৫-৫০ কেজি হয় তখন উচ্চতা ১২-১৪ ফিট হয়। এই কচুর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর পাতাও রান্না করে খাওয়া যায়। এবং এই কচুর তরকারী অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি কচু কেটে পিস হিসেবে বাজারে বিক্রয় হয় এবং প্রতি কেজির বাজারদর ২৫ টাকা। মণপ্রতি ১০০০ টাকায় বিক্রয় হয়। দুলাল জমাদ্দার জানান, প্রতি শতকে তার বছরে উৎপাদন খরচ পড়েছে ৬০-৭০ টাকা। আর যেহেতু ৪ বছরে প্রতিটি কচু প্রায় ১ মণ হয়। সুতারং ৪ বছরে প্রতি শতক কচু জমি থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেন্দিগঞ্জ ,বরিশাল কতৃক আয়োজিত ফলদ বৃক্ষ মেলাতে দুলাল জমাদ্দার তার জমিতে আবাদকৃত একটি সুবিশাল কচু , প্রদর্শনীর জন্য উপস্থাপন করেন যা সকলের মনযোগ আকর্ষণ করে। দুলাল জমাদ্দার জানান, আগামীতে ৮ শতক জমিতে তিনি এই সাহেবী কচু চাষ করবেন।