বাংলাদেশ একদিকে ‍যেমন কৃষি প্রধান দেশ অন্যদিকে ‍ভৌগলিকভাবেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বন্যা, খরা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশী। প্রতিকূল পরিবেশ সত্বেও কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে করেছে সমৃদ্ধ, বাংলাদেশকে করেছে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ । কিন্তু ‍দেখা যায় প্রতিবছর কৃষকের উৎপাদিত ফসলের একটা বড় অংশ ইঁদুরের মাধ্যমে নষ্ট হয়। ইঁদুর মাঠ থেকে শুরু করে ফসল কর্তনের পরে গুদামজাত অবস্থায় বা গোলায় তোলার পরেও ক্ষতি করে। ইঁদুর শুধু ফসল নয় মানুষের স্বাস্থ্য, সম্পদেরও ক্ষতি করে থাকে এবং রোগজীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে। ইঁদুর একটি চতুর স্তন্যপায়ী প্রাণী যার ক্ষতির ব্যপকতা কৃষি প্রধান বাংলাদেশে অনেক বেশী। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ ধান ও ৪-১২ শতাংশ গম ইঁদুরের কারনে নষ্ট হয় যার পরিমান টাকার অংকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশে ইঁদুরের কারনে বছরে আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গম ফসলের ৪-১২ ভাগ, গোল আলুতে ৫-৭ ভাগ এবং আনারস ৬-৯ ভাগ নষ্ট হয়। বাংলাদেশে ইঁদুরের কারনে ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট হয়। ইঁদুর রোডেনশিয়া বর্গের অর্ন্তভূক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী যাদের অন্যতম বৈশিষ্ট হল দাঁতের গঠন ও বিন্যাস। এই দাঁত জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাড়তে থাকে। আর দাঁতের গঠন ঠিক রাখার জন্য বা দাঁত ক্ষয় করার জন্য ইঁদুর কাটাকাটি করে। বিভিন্ন ধরনের ইঁদুরের মধ্যে মাঠের বড় কালো ইঁদুর ফসলের ক্ষতি বেশী করে থাকে। ইঁদুর যেকোন পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিয়ে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। উপযুক্ত পরিবেশে একজোড়া ইঁদুর থেকে এক বছরে ইঁদুরের বংশবৃদ্ধি পেয়ে ২০০০-৩০০০টি হতে পারে। একটি স্ত্রী ইঁদুরের বয়স ৩ মাস পূর্ণ হলে বাচ্চা দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে এবং বাচ্চা প্রসবের ২ দিন পরেই আবার গর্ভধারন করতে পারে। ইঁদুর সারা বছরেই বাচ্চা ‍দিতে পারে তবে বছরে ৫-৭ বার এবং প্রতিবারে ৬-১০ টি বাচ্চা দিতে পারে। ইঁদুর অধিকাংশ সময় মাটি থেকে প্রায় ১০ সেমি উপরে ৩০-৪৫ ডিগ্রী কােণে তেরচেভাবে কান্ড কেটে দেয় যার ফলে মাঠ ফসলের কান্ড নুয়ে পড়ে। অতএব সমন্বিত, সম্মিলিত এবং সময়োপযোগী দমন পদ্ধতি ব্যবহার করলে সহজেই ইঁদুরের উপদ্রপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।